প্যারাডক্স



যে ক’টা সন্ধেবেলায় নিজের ভেতরের পশুটা গুটিসুটি মেরে সোফার পায়ের কাছে পড়ে থাকে, ত্যামনই একটা সন্ধে নেমেছে আজকে। শহরে না হলেও, আমার শহরে তো বটেই। বেকেলাইটের গায়ে আজকে আর টিপছাপ দিতে ইচ্ছে করছে না। থাকুক খানিকক্ষণ নিজের মতো। আমার শরীরের ভেতরের তরল বাইরে এসে আমাকেই আষ্টেপৃষ্টে ধরুক। নিজের ছোঁয়াও একটু পেতে ইচ্ছে করে বৈকি। কিন্তু ঐ যে, চাইলেই তো আর পাচ্ছি না! এখন তো ইচ্ছে করে ক’টা বছর ডিঙিয়ে, জুতোর সাইজ কমিয়ে, মাথার ভেতরটা একটু খালি করে আমার বাড়ির উঠোনটায় পা ছড়িয়ে বসতে। ইচ্ছে তো করে। এই টোয়েন্টিফোর-সেভেনের ল্যুপ থেকে বেরিয়ে লোডশেডিংয়ের সন্ধেগুলোয় মায়ের সাথে অন্তাক্ষরী খেলতে। সেই সময়টায় ফিরতে, যখন বাবা সুপারহিউম্যান থেকে রক্তমাংসের মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি। তখনও আমার ভেতরের ইদিপাসকে ফ্রয়েড কান ধরে হিড়হিড় করে টেনে এনে শো-কেসে সাজিয়ে রাখেননি। তখন গোপনীয়তা বলতে পিউবিক হেয়ার না, ঘেমো হাতের তেলোয় যত্নে রাখা আমশুঁটি বুঝতাম। ট্রাম্প বলতে পাঁচিলের দৈত্য না, বালিশের তলায় লুকোনো বেন-টেনের ট্রাম্পকার্ড বুঝতাম।
বুঝতাম না। অবুঝ ছিলাম।
ভালো ছিলাম।
ভালো।
ছিলাম।
এখন নেই।
ভালো থাকার মধ্যে যে চারটে খুঁটি পুঁতে ফেলেছি, তারা যে কখন বাড়তে বাড়তে আমার মাথা ছাড়িয়ে গ্যাছে; খেয়াল নেই। আমি তো তখনও ভেবে বসে আছি যে লোডশেডিং মানে ছুটি। রোববার মানে স্বর্গ। বড় হওয়া মানে আরও ভালো থাকা।
বড় হয়েছি। নিদেনপক্ষে বয়স তো বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাজার রকম ইনসিকিওরিটি। এসব ছেড়েছুড়ে পালাতে ইচ্ছে করে। ভালো থাকতে ইচ্ছে করে। পালালে ভালো থাকবো কি? নাকি ভালো থাকতে চাইলে পালাতে পারবো?
ছোটো করে বললে ভাল্লাগছে না। সোজা করেও বলা যেত। কিন্তু তাহলে ভাল্লাগতো না।




0 comments:

Post a Comment