পিকলুর মনখারাপ



পিকলুর বেশ কয়েকদিন ধরেই মনখারাপ। সময়-অসময়ে ঝিরঝির করে কেমন একটা জল পড়ছিল আকাশ থেকে। জিনিসটা এতটাই খারাপ লাগে যে সেটাকে বৃষ্টি বলতেও বাধে। সেটা বন্ধ হয়েছে এই কয়েকদিন মাত্র। মাঠ এখনও শুকোয়নি। গত কয়েকমাস ধরে সিঁড়ির নীচে সাইকেল পাম্পারের কাছে পড়ে থাকা ফুটবলটা গায়ে একটা ধুলোর চাদর জড়িয়ে নিয়েছে। কিম্বা মনখারাপের।

শহর জুড়ে মনখারাপ ঘনিয়ে এসেছে। সকালের যে সূর্যটাকে এতদিন ডিমের কুসুমের মত মনে হত পিকলুর, সেটাতেও যেন ইদানিং একটা ভেজালের রঙ ধরেছে। ম্যাড়মেড়ে হয়ে গেছে সেটাও। আর বিকেলগুলো? মায়াবী মনখারাপ বললে কেমন হয়?

আকাশে রঙের খেলা আছে, কিন্তু রঙিন বলা যায় না ঠিক। পেপারকাকু কয়েকদিন আগেও সকালে রেনকোট পরে পেপার দিতে আসতো। আর কয়েকদিন পর জ্যাকেট আর মাঙ্কিক্যাপ পরার কথা। কিন্তু এখন একটা মোটা জামা পরে আসে। পিকলু দেখেছে সঙ্গে একটা ছাতাও থাকে। যদিও সেটা কতদূর কাজে লাগবে কে জানে! তারপর আনাজকাকু, আনোয়ারদা, শক্তিজেঠু—এরাও কেমন একটা ভেবলে গেছে।

বৃষ্টি হচ্ছে না, শীত পড়ছে না। মশা বাড়ছে। যাকে কামড়ানোর কথা, সেদিকে না গিয়ে ট্র্যাক চেঞ্জ করে এদিকওদিক উড়ে বেড়াচ্ছে। এই মশাগুলোকেই মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি মনে হয় পিকলুর। মানুষের মতই এদের বোধহয় জননকাল বলে কিছু হয় না। সারা বছর, সব সময়। কাজ চলছে। চলছেই। এদের কোন হেলদোল নেই। সরকারি অফিসের হেড পিওনের মত বেশ খানিকটা। কিম্বা মিনিবাসের কন্ডাক্টর। এরা পালটায় না।

পিকলুর একঘেয়ে লাগে। গেম অফ থ্রোন্সের আট নম্বর সীজন বেরোচ্ছে না। শীত আসছে না। প্রেম পাচ্ছে, প্রেমিকা আসছে না। ঘুম পাচ্ছে, ঘুম ধরছে না। রোদ বেরোচ্ছে, গায়ে লাগছে না।

ঠাণ্ডা লাগছে, শীত পড়ছে না।

পিকলুর মনখারাপ কাটছে না।






0 comments:

Post a Comment