পিছুডাক



আজ মনমেজাজ একেবারেই ভালো নেই সৈকতবাবুর। পাঁজি দেখে ঠিকঠাক করে রেখেছিলেন যে আজই কাজটা সেরে ফেলবেন। সেই মত সকাল সকাল পুজোপাঠ সেরে লুচি আর সাদা সাদা আলুর দম দিয়ে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়েছিলেন স্পেসশিপটা নিয়ে। গিন্নি দুবার জিজ্ঞেস করেছিল, “ওগো, কী গো, কোথায় যাবে এত সকালে?” কিন্তু সৈকতবাবু মুখ খোলেননি। ভেবেছিলেন সারপ্রাইজ দেবেন গিন্নিকে। কিন্তু তাঁর  গিন্নির মধ্যে সতী-সাবিত্রীর ট্রেইটটা যে কবে থেকে এত ডমিন্যান্ট হয়ে গেছে, সেটা বুঝতে পারেননি। হিসেবের গণ্ডগোলটা তো সেখানেই। গিন্নিও কিন্তু একবারও কিছু বলল না। শুধু ‘দুগ্‌গা দুগ্‌গা’ বলে কপালে দুবার হাত ঠেকিয়েছিল। নাহ্‌! অনেক ভেবেও সৈকতবাবু এর চেয়ে বেশি কিছু মনে করতে পারলেন না। তিনি আন্দাজও করতে পারেননি কী হতে চলেছে।

যাই হোক, স্পেসশিপ নিয়ে যখন মঙ্গলে কেনা নতুন ফ্ল্যাটটার দিকে ছুটে যাচ্ছেন এক লক্ষ একুশ হাজার মাইল প্রতি ঘণ্টায়, হঠাৎ একজায়গায় প্রচণ্ড চিৎকার চেঁচামেচি শুনে একটু থামলেন। জিপিএসে দেখলেন ‘বরাবাটি স্টেডিয়াম,কটক’ মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠলো তাঁর। এই ম্যাচের জন্যই তো তাঁর ফ্ল্যাটটা হল। অফিসের ঘোষাল আজকের ইন্ডিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচে ইন্ডিয়ার হয়ে বাজি ধরল বলেই না ফ্ল্যাটটা জিতলেন সৈকতবাবু! এখনও জেতেননি অবশ্য। তবে আজ পাঁজি মিলিয়ে দেখেছেন ভারতের ফাঁড়া আছে। ক্রিকবাজ খুলে একবার স্কোরটাও দেখেছিলেন আসার সময়। কোহলি আউট। হে হে! এবার আর তাঁর ফ্ল্যাট ফসকায় কী করে! আর একবার স্কোর দেখবেন বলে ধীরেসুস্থে নেটটা চালালেন। তারপরে আর কী হল কিছু মনে নেই।

জ্ঞান যখন হল,তখন বাড়ির খাটে শুয়ে আছেন সামনে গিন্নি দুধের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। গ্লাসটা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “তখনি ভাবছিলাম, সরুপিঠের পর মাটন দো-পেঁয়াজা খেয়ে কিছু না হয় যেন। তা তোমার কী হয়েছিল গো? মাঝরাত্তিরে খাট থেকে নেমে মেঝেতে পড়ে গেলে যে?”

সৈকতবাবুর চোখের সামনে তখন নতুন ফ্ল্যাটের চাবি যুবরাজের ব্যাটে লেগে সোজা উঠে চলেছে মঙ্গলের দিকে।       



0 comments:

Post a Comment