পরানের গান



 পরাণের ঘর খালি আজ চারবছর হল। সুরমা নেই। পরাণের সুরমা নেই। পরাণ তাই এখন আর ঘরে ঢোকে না। স্কুল থেকে ফিরে কোনোরকমে টলতে টলতে বসে পড়ে দাওয়াটাতে। রোদ থাক,জল হোক--আর কিছুরই পরোয়া করে না সে আজকাল। কিন্তু তবু খিদে পায়। শরীরের খিদে। তাই হাজার চেষ্টাতেও সে স্কুল যাওয়া বন্ধ করতে পারে না। স্কুল না গেলে খাবে কী? স্কুলের গার্ডের চাকরি ছেড়ে আর কিছু করতে তার ইচ্ছে হয় না। তার ইচ্ছে করে সারাটা দিন দাওয়াতে চিত হয়ে শুয়ে টিনের চালের ফুটো দিয়ে আকাশে উঁকি মারতে। রাত হলেই সে চুপ করে উঠে বসে। বাঁশের খুঁটিটার গায়ে হেলান দিয়ে বসে।

পাশের বাড়িটা মানালি বৌদির। মানালি বৌদি পরাণের স্কুলে পড়ায়। মেকআপ করে। বড় ফোনে খুটখাট করে। দামি গন্ধ মাখে। রঙিন শাড়ি পরে। শাড়ির ফাঁক দিয়ে বৌদির ফর্সা শরীর দেখা যায় ইতিউতি। পরাণ দেখে। তার শরীরটা জ্বলে যায়। বৌদি জানে। পরাণকে শরীর ছুঁতে দেয়। আদর করতে দেয়।
বৌদির বর এখানে থাকে না। ন'মাসে-ছ'মাসে বাড়ি আসে। মদ খায়। মেয়েছেলে নিয়ে আসে বাড়িতে। বৌদি কাঁদে।
বৌদির বর বৌদিকে ভালোবাসে না। পরাণ জানে।
পরাণ বৌদিকে ভালোবাসে। আদর করে সুরমা ভেবে। বৌদি জানে।
মাঝরাত্তিরে চৌকিদারের হাঁক ছাপিয়ে পরাণের কানে আসে বৌদির শীৎকার। পরাণের হুঁশ ফেরে। বৌদির পিঠে ঘামের ফোঁটা চকচক করে। পরাণের নেশা হয়ে যায়। বৌদির ফোন আসে। বিরাট ফোন দেখে পরাণের লোভ হয়। তার এরকম ফোন থাকলে সে কাউকে পাত্তা দিত না। ফোন ধরতে বৌদি চিত হয়। পরাণের মাথার ঠিক থাকে না আর। বৌদি,সুরমা,ফোন সব একাকার হয়ে জ্বলজ্বলে মাংসের তাল হয়ে যায়।
ঘাম,বীর্য আর সেন্টের গন্ধে ঘরের হাওয়া ভারী হয়ে আসে। বৌদির ফোন থেকে ভেসে আসা একটা মায়ামাখা সুর আর একটা ছেলের আদুরে গলা খেলা করে বেড়ায় সেই হাওয়ায়। পরাণের মাথা ঝিমঝিম করে। তার চারদিকের সবকিছু ঝাপসা হতে হতে অনেকদূর চলে যায়। আবার একটু কাছে এসে হাতছানি দেয়। পরাণ সেদিকে চেয়েই থাকে। পলক পড়ে না। সে বুঝতেই পারে না কখন বৌদির বাড়ি ছাড়িয়ে সে তারাদের রাজ্যে পৌঁছে যায়। তার চোখ আর বন্ধ হয় না। খিদে পায় না।

নিজের ঘরটা আর খালি খালি মনে হয় না পরাণের। সে একদৃষ্টে চেয়ে থাকে দূরের তারাটার দিকে। বৌদির ঘরের সেই আওয়াজটা তখনও তার চারপাশে নেচে বেড়ায়।




0 comments:

Post a Comment