এটা সেই কবিতা যার নামটি কাব্যিক মনে হয়নি সম্পাদকের

নতুন করে কিছুই তো জানানোর নেই, সেই সাদা খাতা, সেই কুমকুমের রঙের ভোর, সেই আলো আঁধারে গলি পার করে বাড়ি-ঘর; জানালা-দরজা, সাদা থানে মায়ের চোখ বারান্দায় । তবু তো ডাইরির পাতায় আমি কিছু না কিছু লিখে রাখি প্রতিদিন তোর জন্যে; একদিন তুই আসবি এই অন্ধকারে ।
নতুন কিছুই পাবি না, নেই কোন গোপন চিন্তার প্রকাশ; তবু লিখি আমি। তোর জন্যে তোর জানা কথাগুলো আবার লিখি ।

লিখতে পারিনা সবুজ প্রেমের গল্প বহুদিন। ডাইরি পাতায় পাতায় আমি শুধু আমার জ্বালাটাই লিখতে পারি অক্ষর বিন্যাসে । রাত কত হইলো' রমজান আলি বা রতন সূত্রধরের জানা নেই;
আমারও জানা নেই। বারুদের ঘ্রাণ ছড়িয়ে আছে গৈরিক সন্ত্রাসের আঁধারে। কুমকুমের রঙ ঠিক করে দেয় সকালের আঁধার। ভূমিষ্ঠ শিশুর হাতে তলোয়ার। সে ছাড়পত্র পেয়ে গেছে নতুন সন্ত্রাসের আলো বা আঁধার !
কে জানে, জানিনা তুই ফিরে আসবি কিনা। পড়তে পারবি কিনা আমার অবিন্যাস শব্দের আঁকিবুঁকি; তবু লিখতেই হবে প্রতিদিনের জানা সব কথা কাগজে পেন্সিলে।
কি জানি যদি ফিরে আসি কোনদিন সেটা রাত বা দিন কি আসে যায় তাতে ।
এখন আর ভালোবাসার গল্প লিখতে পারিনা । রঙীন আলোগুলো নিভে যায় রোদ্দুরে । স্মৃতির গল্পে অতর্কিত নেমে আসে বিষণ্ণ সানাইয়ে সুর। দূরে দূরান্তে শৈশব কেড়ে নেয় লম্পট পুরুষ।
কে যায় - রাতের অন্ধকারে হরি বলের ধ্বনিত্ব সূর, কান্নায় ভাঙে  ভোর ।
বিবর্ণ আকাশ, হিজিবিজি লিখি নরকের কীটের মতো  নাগরিক বার্ধক্যে ।
বহুবার বদল করেছি হৃদয়ের নিঃশব্দ গান । বিষাক্ত শরীর খোঁজে প্রেম । বৃক্ষের ভয়ার্ত পাখিদের বুকে  লতানো নাভিমূলে । হিংসার নিরুপায় সংকেত নিয়ে ফেরে প্রাচীন নাবিক
আলোর তরঙ্গে, আঁধারের জঙ্গলে  অবেলার ডাকে ।
কোন এক অচেনা দ্বীপের কাছাকাছি ফেরে নাবিক অস্ফুট আঁধারের রাতে । কে যায়
নিকট সন্ধ্যায় নিথর দ্বীপের আলোতে । কে ফেরে বিপরীত গণিতের পাঁজরের ভাষা নিয়ে ।
প্রশ্নগুলো দৃশ্যাতীত, কেউ কেউ উজানের টানে ভাসে নাগরিক প্রেম নিয়ে ।
আমার বেশ কিছু কথাছিল তোমার সঙ্গে । কবে বলবো , তুমি কবে সময় দিতে পারবে, কবে আসতে পারবে গোধূলীর রাতে । কবে কবে তুমি পড়াতে যাও, কবে কবে তুমি পড়তে যাও
কবে শপিং মলে , কবে সিনেমা হলে, কবে ফিরবে ভ্রমণ থেকে । 
আমার অনেকগুলো কথা তোমাকে বলার ছিল...অনেকগুলো রাত তোমার সাথে জেগে জেগে। তারপর হয়তো কথাগুলো বলতে পারবো। তুমি ভাবছো কি এমন কথা! সত্যি কি কোন কথা ছিল কোন সময়ে...
শুধু হাতে হাত রেখে চেয়েছিল, শুধু চোখে চোখ দিয়ে দেখেছিলাম, শুধু ঘাতকের সাথে পার করতে পারিনি  নদীর মোহনা । আমার বলার ছিল তোমাকে অনেক কিছু, যেমন নদীর স্রোত কি করে প্রবাহিত হয়। যেমন মাছগুলো কি রকম ডাঙায় উঠে মরে যায় । যেমন ভোরে পূবদিকে তাকালে সূর্য্যের লাভা দেখায় যায় যদি না আকাশে মেঘ থাকে । আরও অনেক কিছু বলার ছিল। লিখে রেখেছিলাম স্লেট পেন্সিলে । কিন্তু কখন যেন বৃষ্টি  এসে ভাসিয়ে দিল  আমার সব ।
মেঘের ওপারে একটা ঘর আমার জন্যে । শুকনো কাপড় ভীজে যাবার ভয় নেই , বৃষ্টি এখন অনেকটা দূরে । আয়নার সামনে দাঁড়ালেই তোর কথা মনে আসে । তোর সেই টিপটা এখনো লেগে আছে ড্রেসিং টেবিলে ।বিকেলের রোদটা সরে গেলেই তুই বেড়িয়ে পড়তিস সেতার হাতে। তোকে দেখলেই আমার বসন্তকাল মনে হতো প্রতিদিন । সে বর্ষা,গ্রীষ্ম অথবা হেমন্ত ।
মিছিলের সেই মুখ, শ্লোগানে মুখর আকাশ। পারাপারে ক'জন আমরা  ঝান্ডা হাতে । মেঘের ওপারে আমার প্রিয় ঘরটাতে এখনো রোদ উঁকি দেয় ।
এই দু'দিনে আমি অনেকগুলো মানুষকে জিজ্ঞাসা করেছি তোমার কথা, তারা কেউ বলতে পারেনি তোমার ঠিকানা; শুধু এক বালিকা পূবের জোছনার দিকে চেয়ে বলেছে 'ওই তারাদের মাঝে তোমার ঠিকানা হতে পারে' ! ওই চাঁদের বালুকায় এক নির্জন ঘরে। প্রতিবার পূর্ণিমাতে তোমাকে দেখায় যায় ।
গত পূর্ণ চাঁদের রাতে ভরাট জোছনায় তুমি এসেছিলে মায়াবী-আলোময় শূন্যতার সৌরভে। বিপন্ন দিগন্তের কাছে এসে বলেছিলে 'একদিন আকাশের আলো নিভে গেলে দেখা হবে পদ্মা পারে' ।
আমি অপেক্ষা করেছিলাম ভাষাহীন ক্যানভাসে, তিস্তার বাতাসের ঢেউ লেগেছিল তোমার শাড়ির আঁচলে। তুমি হেসেছিলে শুধু, সেদিন জোনাকীর বনে । মহুয়ার মাতালে এক উন্মাদ দোলায় দোদুল্যমান তোমাকেই খুঁজেছিল তিস্তার চরে ।

এই দু'দিনে অনেকগুলো মিছিল হয়েছিল শহরে। এই দু'দিনে অনেকগুলো নীতি পরিবর্তন করেছে সরকার। এই দু'দিনে বাতাসে আদ্রতার পরিমাণটা কমে গেছে, এই দু'দিনে মৌলালীর মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে কেউ বলেনি 'বাবু দু'দিন খাবার জোটেনি এই ছোট ছেলেটার' ।

অক্ষর বিন্যাসে কিছু কিছু ভুল আমার হয় এই দু'দিনে সেই ভুলগুলো তোমার জন্যে লিখতে পারিনি ।
ক্যানভাসের শব্দগুলো কথা বলেনি বহু যুগ । এই দু'দিনে তোমাকে লেখা হয়নি প্রেম। এই দু'দিনে বাড়ির বারান্দায় উড়ে আসেনি কোন পাখি। আমি শুধু অপেক্ষা করেছি
চাঁদের পৃথিবী থেকে কবে ফিরে আসবে তুমি আমার উঠোনে ।





0 comments:

Post a Comment