এক আকাশ গল্প



ভুলেই গেছি
যন্ত্রনার বাইরে
আকাশটা কি এখনো নীল আছে?
শোনার কথা ছিলোনা,তবুও
শেষ মুহুর্তের প্রতীক্ষারা বলে গেলো
উজাড় করার শেষে
অপেক্ষাই সম্বল!!!

জীবনে চলার পথে কখনও কখনও উদাসীন হতে হয় ,তা না হলে জীবনটা বড্ড জটিল হয়ে যায়। জটিল জীবন কেই বা চায় বকুল ? এর থেকে উদাসীনতাই বেশ ভালো। চারপাশটা এলোমেলো করে রেখে একটাই শব্দ গুছিয়ে রাখি...বড়ই দুঃখের বিষয় তার নামও উদাসীনতা। জীবনটা এতো মূল্যবান করে দিয়ে গেলি  বুঝতেই পারলাম না। না দিতে পারি...না নিতে। তবুও হিসেব দিতে পারি সব বেহিসেবি যন্ত্রনার।

ভুলেই গেছি যন্ত্রনার বাইরের  আকাশটা কি এখনো নীল আছে? শোনার কথা ছিলোনা,তবুও শেষ মুহুর্তের প্রতীক্ষারা বলে গেলো উজাড় করার শেষে অপেক্ষাই সম্বল! বকুল তুমি জানোনা, আমি সেখানেই আছি, শুরু হওয়ার দৌড়ে এগিয়েছিলে তুমি, শেষ হওয়ার দৌড়েও.....সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও এককোনা জানালা খোলা থাকে ...শুধু আকাশ দেখার জন্য...বকুল আমি এখনো গলির মোড়ে বখাটে ছেলেদের সাথে দাঁড়িয়ে গলা ছেড়ে গান গাই। জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি তোর জানালার পর্দাটা আজও নামানো। চায়ের কাপে তোকে নিয়ে তর্ক জুড়ি...
কিছু একটা দরকার, একটা কালো বলপেন দরকার। নতুন করে কিছু পুরাতন কথা লিখতে হবে...নতুন আংগিকে, আমার মা কে দরকার, কাছে থাকা বাবার মায়াবী রক্তচক্ষু দরকার। নতুন করে জ্বলে উঠার জন্য একটু পুরাতন প্রেম...

বকুল, একদিন তোর দখিনের জানালা খুলে দেখিস...দেখতে পাবি, একটা মানুষ হেঁটে যাচ্ছে কাউকে কিছু না বলেই। তোমাকে একদিন আমার শূন্যতার গল্প শোনাবো, শোনাবো আমার জলোচ্ছাস্বের স্বর।যখন নির্জীব, নিস্পন্দ বসে থাকি সেই জলোচ্ছাস্বের স্বর আচ্ছন্ন করে আমাকে, তোমাকে একদিন ধুধু তেপান্তরের দৃশ্য দেখাবো, যেখানে সারি সারি এপিটাফ, বন্ধুর কবর, ভীষন একঘেয়ে শূন্যতা খাবি খেতে খেতে কেমন গড়িয়ে যাচ্ছে দিগন্তের দিকে। তোমাকে একদিন এক রাত্রি নিবিড় অঅলিঙ্গনে
জড়িয়ে রাখবো অন্ধকার মুড়ে; আমার ভেতরের অন্ধকার, আমার ভেতরের ঘর, আমার ভেতরের খাদ
আমার ভেতরের শূন্যতায় আছড়ে পড়া স্মৃতির ভয়াবহ স্রোত...

যে জীবন্ত শহরে ফেলে রেখে এলাম
টুকরো অভিমান , সে শহরে
জড়িয়ে থাকে প্রেমিকার নীল চিঠি ।
একটা একটা দুপুর সেখানে ভস্মীভূত হয় প্রেয়সীর লাল টিপে ।

দীঘল চুলে কেবলই
সন্ধ্যে নেমে যায় , নিয়ন আলোয় রাত
হয়ে যায়, কেবলই রাত হয়ে যায় ।।

আমার একাকীত্বের চিলেকোঠায় তুই অবহেলায় পড়ে থাকা একটা বই। যার নতুনত্বের গন্ধ আজও রয়ে গেছে  বহুব্যবহারের পর।  একদিন মুছে ফেলতে চেয়েছিলাম তোর বুকে লেগে থাকা আহত, বিষাক্ত, কলঙ্কিত অধ্যায়গুলো। আমার চোখের জল দিয়ে; পারিনি। আজ ইচ্ছে করে ছিঁড়ে কুটিকুটি করে ফুঁ দিয়ে বাতাসে উড়িয়ে দিতে তোর কিছুটা হলদে-কিছুটা বিবর্ণ পৃষ্ঠাগুলো; কিন্তু পারিনা। এখানে অশ্রু জাগে প্রাণপনে, জীবনের উর্ধ্বশ্বাসে, উদ্দেশ্যহীন ভ্রান্ত পথে । কোলাহলের ভিড়ে, নিরব মুর্হূতখানি- দিয়ে যায় তার ঘুগান্তরের মন্ত্রবাণী। একফোঁটা অশ্রু জলের করুণায় শেষ হয়ে যায় জীবনের গোধূলি অনন্ত ছায়াপথের প্রান্ত সীমানায় ।
তোমায় বুঝতে সেদিন চায়ের কাপে ঝড় তুলেছিলাম,  একদিন পাতার ভাষা শিখতে হাওয়ার দ্বারস্থ হয়েছিলাম, গুমোট পরিবেশটা বলছিল সেদিন হাওয়াটাও হাওয়া হয়ে গেছে।  আসলে না বলা কথা বোঝার অনেক সন্ধিক্ষন আছে।শুধু ছায়াটাও বলতে পারে কাছে থাকার অনুভুতি।  তাই বুঝতে অসুবিধে হয়নি প্রলেপ দেওয়ার জন্যই প্রলাপ বকেছিলে সেদিন।  প্রলাপের পেছনের আলাপটা বোঝার জন্য আজ আবার গাছের নীচে এসে দাঁড়ালাম।  এইমাত্র মৃদু হাওয়া বইতে শুরু করলো...




0 comments:

Post a Comment