এক হারিয়ে যাওয়া বাশিওয়ালা



কখনও সময় আসে....
জীবন মুচকি হাসে...
ঠিক যেন প’ড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা
অনেক দিনের পর মিলে যাবে অবসর
আশা রাখি পেয়ে যাব, বাকী দু'আনা... 

নাহ, আমার কোনো তাড়া নেই, আমি কোনো স্টেশান নই, তাই এখানে কেউই থামবে না... আমি দেখি কিছু ফিরে আসা আর বারবার কিছু চলে যাওয়া...। গভীর রাতে, একটা পাখির ডাকে আমি নীরবতার আবেশে তাকে বলে দিই আমার হারিয়ে যাওয়ার খবর। জানলার পাশে একটা জোনাকি আসে। আমি একটু খানি নরম আলোতে নিজেকে দেখি। তারপর জোনাকিটাও হারিয়ে যায়!

কাল ভোরে রোদের আগে উঠবো বলে আজ  অল্প শীতে উষ্ণ কম্বলের  নিচে মাথা রাখছিনা আলস্যে।  হয়তবা ঈশ্বরের উপর  হারিয়ে ফেলা বিশ্বাসের  সাথে হারিয়ে যাওয়া 'ভয়' নামক  অনুভূতি খোঁজার জন্যে এভিল ডেথ দেখতে বসেছি বাতি নিভিয়ে।  আগামীকাল তো ছুটি............
অচেনা মেয়েটা জানি নিদারুণ অপচয়  করে চলেছে, দামী কিছু  নোনতা জলের।  মেথা অ্যাম্ফিটামিন ও  ক্যাফেইন মিশ্রণে লাল রঙের  ইয়াবা পুড়িয়ে জেগে থাকা রাত তোমাদের কেমন কাটে আমি জানি না। গতবছর শীত  শেষে হারিয়ে যাওয়া ছেলে গুলোর সাথে হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতিচারণ
করতে গিয়ে বিছানার পাশে রাখা গতরাতের কলার খোসাতে পচন ধরেছে বুঝতে পারছি আজ,
কেমন জানি পরিচিত এক বিদঘুটে গন্ধে। উচ্চ ধারার সুখাদ্য টাইপ সাহিত্যের জন্ম দিতে পারি না,সস্তা কথা গুলো বলেতেই  আমার রাতেরা শেষ হয়ে যায়…

জানালা দিয়ে যতটুকু আকাশ দেখা যায়, মেঘগুলো বিষন্নতায়  উড়ছিলো শুধু। গাছগুলো বৃষ্টিতে ভিজে নতুন। আসন্ন পাতাদের সম্ভাবনায় কিছুটা আহ্লাদী। পাখিগুলো রাস্তায় জমে থাকে জলে
সারছিলো সমবেত স্নান। রাস্তায় চলতে থাকা গাড়িগুলো বারবার চৌরাস্তার লাল এ থামছিলো।
আমার জ্বরাক্রান্ত চোখ কেবলি ছুটে বেড়াচ্ছিল পাখী থেকে চৌরাস্তায় আকাশ থেকে গাছে।
ঝুলানো পর্দার দিকে তাকিয়ে এলোমেলো ভাবনায় মনে পড়ে কতকিছু। জ্বর এলেই এমন বেহিসাবী নিমপাতা দিন। কে জানে পৃথিবীর অন্যখানে বুক ভরা বেদনা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটে কারো কি?
সেই বেদনাকে ছুঁতে পারে কে? শুধু জানালা দিয়ে তাকালেই দেখা যায় একটা ছোট্ট মেঘের পথ বহুদুর বেয়ে গেছে। মনটাকে বিমর্ষ করে দিয়ে সেই পথ ঘুরে আসি।

একঝাঁক মানুষের মধ্যে খুব একা হয়েছিলাম আজ বিকেলেই। শেষ বিকালের সূর্যটাই তার কারন। এই রকম সূর্যাস্তের কাছে গেলে মন যে কেমন করে। একটা ছোট্ট মেয়ে বালিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিল।আমি প্রজাপতির মত সেই মেয়েটার  দিকে তাকিয়ে ছিলাম। জীবনের সুখগুলো ওর ফ্রকের ভাজে ভাজে দোল খাচ্ছিল। অস্ত যাওয়া সুর্যের আলোতে ওকে কি দারুণ যে দেখাচ্ছিল।

এক রাশ কলকাকলির মধ্যে দাঁড়িয়ে আমার নিজস্বতায় সূর্যকে আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিলাম।কি আশ্চর্য এক অনুভব, এখানের অস্ত যাওয়াটা সূর্যটা ওখানে মায়ের চোখ এ আলো দিচ্ছে।
মাকে কিইবা আর দিতে পারি? এই এতদুর থেকে মা ,মা গো আজ আমার সূর্যটা তোমার হোক। তোমার চাঁদটা আমায় দাও মা। আর সেই তারা ভরা আকাশ। যার দিকে তাকিয়ে তোমার বলা কবিতা শুনবো...

মরচে ধরা জানলার পাল্লা খুলতেই কিছু খুচরো পাপ ছড়িয়ে পড়ে মেঝেতে, আর মুখের আনাচে কানাচে গুঁড়ো গুঁড়ো অনুভব দমকা হাওয়ায় হ্যাঙ্গারে রাখা জামা দোল খায় ঘর জুড়ে আপন খেয়ালে। আর বারান্দার কার্নিশে ডানা ঝাপটায় বুড়ো কাক। নি:সঙ্গ দুপুর জুড়ে তোমার না আসা চিঠি, লিখে চলি অকারণ হলদে পাতা জুড়ে আর মনের প্রান্তে ক্যানভাসে কেউ এঁকে চলে রং-তুলি।

হঠাৎ একটা চড়ুই জানলা খোলা পেয়ে ঢুকে পড়তে চায়, শুকনো পাতার ঝরে পড়ায় আর কড়ি বরগার ফাঁকে আটকে থাকা ভাঙা ঘুলঘুলি, পাঁচিলের ওপাশে আটকে পড়া রোদের ছায়া বাঁক ফিরে আধ বন্ধ হওয়া চায়ের দোকান আর আচমকা হাঁক দিয়ে যায় কোনো ফেরিওয়ালা,…
কুড়িয়ে বাড়িয়ে যেটুকু পড়ে থাকে নীল-তাকে কিংবা চৌকাঠ ভেঙ্গে পেরিয়ে যাওয়া সদর দরজায় আর গলির মোড়ে আসে না সেই অচেনা বাঁশিওয়ালা…

0 comments:

Post a Comment